অমিত শাহ আজ থেকে দুই দিনের ছত্তীসগড় সফরে গিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো মাওবাদী প্রভাবমুক্ত “নতুন বস্তার” উন্নয়ন মডেলকে সামনে আনা এবং নিরাপত্তা ও উন্নয়ন—দুই ক্ষেত্রেই সরকারের সাফল্য তুলে ধরা। সফরের প্রথম দিনে তিনি রাজধানী রায়পুরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সেখানে ছত্তীসগড় সরকার, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মূলত মাওবাদী দমন অভিযান, সীমান্তবর্তী জঙ্গলে নিরাপত্তা জোরদার এবং আদিবাসী অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বস্তার অঞ্চলে একাধিক বড় মাওবাদী ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তা, মোবাইল নেটওয়ার্ক, স্কুল, হাসপাতাল ও পানীয় জলের মতো পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও দ্রুত এগিয়েছে। সরকার এই মডেলকেই “নতুন বস্তার” হিসেবে তুলে ধরছে।অমিত শাহ সফর চলাকালীন কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও পর্যালোচনাও করবেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে: নতুন সড়ক ও সেতু প্রকল্প আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের জন্য আবাসিক স্কুল স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট গ্রামীণ ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ সম্প্রসারণ তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গেও দেখা করবেন এবং মাওবাদী বিরোধী অভিযানে তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করবেন বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার বার্তা দিতে চাইছে যে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই বস্তারের পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই বদলেছে। তবে বিরোধীদের দাবি, এখনও বহু গ্রামে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং মৌলিক পরিষেবার অভাব রয়েছে। ছত্তীসগড়ে আগামী স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেও এই সফরকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।